1. news@bijoytv24.news : বিজয় বাংলা টিভি : বিজয় বাংলা টিভি
  2. info@www.bijoytv24.news : বিজয় টিভি ২৪ :
রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫, ১০:১০ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধা জেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতায় জমজমের জুয়ার আসর নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার

মোঃ মিজানুর রহমান মিলন জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা।
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কল্যাণপুরে বারুণীর মেলা ঘিরে জমে জমে উঠেছে জুয়ার আসর। ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলায় বসেছে অন্তত ১০টি জুয়ার স্পট, যেখানে প্রকাশ্যেই চলছে ছয়গুটি, ফরডাবু, ঘির্ণি, তিন তাসসহ নানা ধরণের জুয়া খেলা। এসব জুয়ার আসরের ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল বলছেন, বারুণীর মেলার পবিত্রতা নষ্ট করে চলছে জুয়া ও মাদকসেবনের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড। জুয়ায় আসক্ত হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অনেক সাধারণ মানুষ, বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা, চুরি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা।

মেলাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাত থেকে আশেপাশের গাছবাগান ও ঘাঘট নদী তীরবর্তী ফাঁকা জায়গায় ত্রিপল বিছিয়ে গোপনে এবং প্রকাশ্যে  বসানো হয়েছে এসব জুয়ার আসর। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, থানা ও ডিবি পুলিশ, কিছু জনপ্রতিনিধি এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করেই চিহ্নিত জুয়ারি চক্র এ আয়োজন করেছে। এজন্য মোটা অঙ্কের অর্থ বণ্টন হয়েছে বলে সর জমিনে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার প্রশংসা প্রশাসনকে জানা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা। ফলে দিন দিন ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা গণেশ চন্দ্র সরকার বলেন, “প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে বারুণীর এই মেলা হয়ে আসছে। এটি আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে কিছু দুষ্টচক্র এই উৎসবের পবিত্রতা নষ্ট করছে।”

স্থানীয় স্থানীয় ব্যক্তি আজিজার রহমান জানান, “গত কয়েক বছর পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় মেলায় জুয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু এবার তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এতে এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদ হাসান শুভ বলেন, “মেলায় জুয়া চলতে দেওয়া হবে না। আমরা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি এবং গ্রামপুলিশের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

এদিকে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজ উদ্দিন খন্দকার বলেন, “জুয়া খেলার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তবে অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, আগেই পুলিশের একাংশকে ম্যানেজ করে জুয়ার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো লোক দেখানো বলেই মনে করছেন তারা।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাজী মো. মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “মেলা ঘিরে কোথাও জুয়া খেলার সুযোগ নেই। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই ধর্মীয় উৎসবে দেশজুড়ে পুণ্যার্থীদের আগমন ঘটে। তাই বারুণীর মেলার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত